সুনামগঞ্জ , সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫ , ১৭ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে বৌলাই নদীতে নৌকা ডুবে নিহত ৪, আহত ১ জামালগঞ্জে দূর্নীতির অভিযোগে সদর ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বরখাস্ত অর্ধযুগ পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবেন খালেদা জিয়া “এমন ভূমিকম্প গত ২০ বছরে দেখা যায়নি মিয়ানমারে” ডিসিদের প্রতি ১২ নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার বিএনপি নেতা কামরুলের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের জোয়ার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কারও দলের নয় : কাদের সিদ্দিকী সয়াবিন তেল লিটারে ১৮ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ পণাতীর্থে লাখো মানুষের পুণ্য স্নান শান্তিগঞ্জ-ডুংরিয়া সড়ক নির্মাণকাজের তথ্য নিয়ে লুকোচুরি স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে : জেলা প্রশাসক পূর্ব শত্রুতার জের : বিষ প্রয়োগে রাজহাঁস হত্যা জাফরগঞ্জে জামায়াতের ইফতার ও দোয়া মাহফিল জামালগঞ্জে দরিদ্র্যদের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ জামালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেফতার বাদশাগঞ্জ ক্রিকেট লীগ উদ্বোধন আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মধ্যে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণ গৌরবময় স্বাধীনতা দিবস আজ আজ থেকে শুরু হচ্ছে পণাতীর্থে গঙ্গাস্নান

বিশ্ব পানি দিবস আজ, নিরাপদ পানি : সমস্যা ও করণীয়

  • আপলোড সময় : ২২-০৩-২০২৫ ১২:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৩-২০২৫ ১২:৫৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
বিশ্ব পানি দিবস আজ, নিরাপদ পানি : সমস্যা ও করণীয়
এস ডি সুব্রত: পানির অপর নাম জীবন। অথচ পানির অপচয় ও দূষণ নিয়ে আমরা মোটেও সচেতন নই। পানি জীবনের একটি মৌলিক চাহিদা। যেখানে পানির উৎস বেশি, সেখানে প্রাণী এবং উদ্ভিদের উপস্থিতি বেশি হতে দেখা যায়। মানুষের খাওয়া, ব্যবহার, শস্য ও পণ্য উৎপাদন, নির্মাণ ও অগ্নিনির্বাপণে পানি ছাড়া উপায় নেই। তাই অতীতে পানি সঙ্কটে কোটি মানুষ নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্তত ৪০ শতাংশ মানুষ পানি ঘাটতির সমস্যায় পড়েছে। ২০৩০ সালের দিকে তীব্র পানি সঙ্কটে প্রায় ৭০ কোটি মানুষ দেশের মধ্যে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হবে। পৃথিবীব্যাপী পানির প্রয়োজনীয়তা, নিরাপদ পানির সংস্থান ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সাল থেকে সারাবিশ্বে একযোগে ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। আমরা পানির ব্যবহার নিয়ে ভাবিনা এবং পানিকে গুরুত্বসহকারে নেই না। ফলে সুপেয় পানির অভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। দিন দিন কমছে বিশুদ্ধ পানির উৎস। বেঁচে থাকার জন্য পানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও আমাদের দেশে সুপেয় পানি প্রাপ্তি একটি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। বিশেষকরে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত দিন দিন কমে যাচ্ছে, যা আমাদের দেশসহ বিশ্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। পানির সমস্যা দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে। আমাদের দেশে সুপেয় পানির সংস্থান ভূ-উপরিস্থ এবং ভূগর্ভস্থ এই দুই উৎস। অথচ পানি দূষণের ফলে বিশুদ্ধ পানির জন্য ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার আজ নেই বললেই চলে। তাই বিশুদ্ধ পানির প্রাকৃতিক আধার ভূগর্ভস্থ পানির ওপর সীমাহীন চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ধীরে ধীরে নিঃশেষিত হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থান থেকে আমাদের দেশের বিশুদ্ধ পানির ভবিষ্যৎ সংস্থান চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে। এখনই এ বিষয়ে সচেতন না হলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পানি সংকটের মোকাবেলা করতে হবে আমাদেরকে । সারা পৃথিবীর মানুষ বিশুদ্ধ পানির জন্য ভূগর্ভস্থ পানির উৎসকে যথাসাধ্য ব্যবহার করছে। অথচ এই উৎস লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ সেই স¤পর্কে জানতে পারছে না। যেহেতু এটা সসীম প্রাকৃতিক স¤পদ, সেহেতু এই স¤পদের অপচয়, অবহেলা এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এই স¤পদকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই আমাদের সকলের উচিত পানি স¤পর্কে সচেতন হওয়া, পরিমিত ব্যবহার ও ভূগর্ভস্থ পানি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা রাখা। তা না হলে বিশুদ্ধ পানির সমস্যা থেকে খুব সহজে আমাদের উত্তরণের কোনো পথ নেই। এখনই সময় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প পানি ব্যবহারের উৎস সন্ধান ও এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া । কল কারখানার দূষিত রসায়নিক পদার্থ, কৃষিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন কীটনাশক সার, নৌযানের ভাঙ্গা অংশ, তেল, মবিল, তেলজাতীয় সামগ্রী (যা সরাসরি নদীতে ফেলা হয়) পানি দূষণের প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে ছোট-বড় কলকারখানার তৈলাক্ত বর্জ্য, ছাপাখানা, টেক্সটাইলের বিষাক্ত রাসায়নিক রং, গার্মেন্টস কারখানার ব্যবহৃত পানি, ট্যানারির মারাত্মক পানিদূষণকারী রাসায়নিক বর্জ্য ইত্যাদি প্রতিনিয়ত নদীর পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। বড় বড় শহরের যাবতীয় বর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ে নদীতে, যা ভূ-উপরিস্থ পানিকে ব্যাপকভাবে দূষিত করছে। এই ভূ-উপরিস্থ দূষিত পানি বিভিন্ন উপায়ে ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ভূগর্ভস্থ পানিকেও নষ্ট করে তুলছে। ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ ও পানির স্থর কমে যাওয়ার জন্য ভূ-উপরিস্থ পানি দূষণই দায়ী আমাদের দেশসহ সারাবিশ্বে ব্যাপক পানি দূষণের কারণে ভূ-উপরিস্থ পানির অবস্থা শোচনীয়। যার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ব্যাপক চাপ পড়ছে। তাই এখনই আমাদের উচিত ভূগর্ভস্থ পানি রক্ষা করার জন্য ব্যাপক পানি দূষণ বন্ধ করা। আর পানি দূষণের প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে নদনদী খালবিল, সমুদ্র ইত্যাদি। তাই ভূ-উপরিস্থ পানিকে পানি দূষণের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নদ-নদীতে সব ধরনের কঠিন, গৃহস্থালি ও সেনিটারি বর্জ্যের মিশ্রণরোধ করা অত্যাবশ্যক। নদীতীরে শিল্পকারখানা নির্মাণ বন্ধ, সেই সঙ্গে দেশের বড় বড় শিল্প জোনের শিল্পকারখানার রাসায়নিক ও ট্যানারি বর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক করা এবং এর নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। তাই প্রতিটি শিল্পকারখানার সঙ্গে শোধনাগার বা অ্যাফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। নদী ও সমুদ্রের পাড়ে জাহাজভাঙা শিল্প, লঞ্চ, স্টিমার নির্মাণসহ মেরামতকালে নদী ও সমুদ্রের পানিতে কারখানার তৈলাক্ত বর্জ্যের মিশ্রণ প্রতিহত করতে হবে। কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মিশ্রিত পানি যাতে খাল-বিল-নদীতে মিশতে পারে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশ আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতসহ পানি দূষণকারীদের আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নদ-নদী দূষণরোধে দেশের আপামর জনগণকে স¤পৃক্ত করে তাদের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এ বিষয়ে সরকার এবং সচেতন জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসতে হবে। ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে হলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার সর্বোচ্চ হারে বাড়াতে হবে। বিশেষকরে পানিদূষণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রোধ করার জন্য ব্যাপক নীতিমালা গ্রহণ করার পাশাপাশি নদীনালা, খালবিল ইত্যাদি ব্যাপকভাবে খনন করতে হবে। যাতে ভূ-উপরিস্থ পানির মজুত বাড়ে। কোনো প্রকার প্রাকৃতিক অপ্রাকৃতিক জলাশয় যেমন- হ্রদ, পুকুর, দিঘি, ডোবা ইত্যাদি ভরাট করা যাবে না। প্রয়োজনে আইন করে বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে এসব রক্ষা করতে হবে। গৃহস্থালি ও শিল্পকারখানায় বেশি বেশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং ব্যবহৃত পানিকে পরিশোধন করে পুনঃব্যবহার করতে হবে। পানি পুনঃব্যবহরের উন্নত পদ্ধতি বের করার জন্য গবেষণা বাড়াতে হবে এবং বিজ্ঞানভিত্তিক উপায় খুঁজে বের করতে হবে। দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণা করে বৃষ্টির পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়াতে হবে। সে সঙ্গে সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সর্বোচ্চ ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু তাই নয় সরকারি উদ্যোগে বৃষ্টির পানি সরাসরি ভূ-অভ্যন্তরে প্রবেশ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। যাতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের উন্নতি হয়। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানো, দূষণরোধ এবং এর বিকল্প উৎসের সংস্থান করতে হবে। যাতে করে পৃথিবী আরও বেশিদিন এই উৎস থেকে পানি আহরণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পানিদূষণের কারণে পৃথিবীতে আজ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ চরম হুমকিতে। এই অবস্থায় প্রাকৃতিক ভূগর্ভস্থ পানিও যদি নিঃশেষ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্ব জীববৈচিত্র্য ব্যাপক হুমকির মখে পড়বে। তাই আমাদের সবার উচিত এই বিষয়ে যথাযথ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। নিজে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আশেপাশের মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে সবাইকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ঢাকাসহ অন্যনা অঞ্চলে সুপেয় পানি সংকটের অন্যতম কারণ হলো ভূগর্ভস্থ স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ পানির চাহিদা বাড়ছে। আর যে হারে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নামছে, সে হারে পানির স্তর পূরণ হচ্ছে না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ জায়গায় বর্ষার মৌসুমে পানির ভূগর্ভস্থ স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসলেও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল ও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের কিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে না বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সে কারণে এসব অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে অতিদ্রুত কাজ করা উচিত। পানি বিশেষজ্ঞ ড. তানভীর আহমেদ মনে করেন, পানি সরবরাহে ওয়াসার মনিটরিং সিস্টেম কার্যকর করতে হলে বিদেশি সফল মডেলগুলোকে অনুসরণ করতে হবে। এই সিস্টেমটা যেন ভালোভাবে কাজ করতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও পানি দূষণরোধে ভূমিকা পালন করতে হবে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুপেয় পানির একটা ভাল ব্যবস্থা রেখে যেতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স